বাংলাদেশের পাখি পরিচিতিঃ পর্ব-০১

বাংলাদেশের পাখির তালিকায় মোট ৭৪৪টি পাখি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সমস্ত পাখির মধ্যে গত দুই শতকে বাংলাদেশে ছিল (কিন্তু এখন নেই) এবং বর্তমানে আছে এমন পাখিও অন্তর্ভুক্ত। এমন পাখির সংখ্যা মোট ৬৫০টি। এ ৬৫০টি পাখির মধ্যে ৩০টি বাংলাদেশে বর্তমানে বিলুপ্ত, অতীতে বাংলাদেশে ছিল। ৩০টি পাখির মধ্যে ২৯টি অন্য দেশে পাওয়া গেলেও একটি- গোলাপীশির হাঁস, সম্ভবত সারা পৃথিবীতেই বিলুপ্ত। অবশিষ্ট ৬২০টি প্রজাতির পাখি সাম্প্রতিককালে এদেশে দেখা গেছে এবং এরা বাংলাদেশে থাকে বা আসে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ৬২০টি প্রজাতির মধ্যে ১৪৩টি প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে ‘অনিয়মিত’ আখ্যায়িত হয়েছে, কারণ কালেভদ্রে এদের দেখা যায়। বাকি ৪৭৭ প্রজাতির পাখি বাংলাদেশে নিয়মিত দেখা যায়। এই ৪৭৭ প্রজাতির মধ্যে ৩০১টি বাংলাদেশের ‘আবাসিক’ পাখি যেগুলো স্থায়িভাবে এ দেশে বাস করে। বাকি ১৭৬টি বাংলাদেশের ‘পরিযায়ী’ পাখি যেগুলো খণ্ডকালের জন্য নিয়মিতভাবে এ দেশে থাকে। এই ১৭৬ প্রজাতির নিয়মিত আগন্তুকের মধ্যে ১৬০টি শীতে এবং ৬টি গ্রীষ্মে বাংলাদেশে থাকে; বাকি ১০টি বসন্তে এদেশে থাকে যাদেরকে ‘পান্থ-পরিযায়ী’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

৭৪৪টি পাখির মধ্যে বাকি রইল ১৯৪টি পাখি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখক বাংলাদেশে এ সব পাখির অস্তিত্ব থাকতে পারে বললে অনুমান করেছেন, কিন্তু কোন অকাট্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি বা পরবর্তীতে এদেরকে এ অঞ্চলে কখনো দেখা যায় নি। এসব পাখিকেও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতীক ও সংকেতসমূহ

প্রাচুর্য নির্দেশ করার জন্য নিম্নলিখিত চারটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে-

  • অনিয়মিত: যে পাখি সারা দেশে ১০ বছরে দুইবার দেখা যায় নি
  • বিরল: সঠিক মৌসুমে, সঠিক আবাসে বারবার না গেলে যে পাখি দেখা সম্ভব হয় না
  • দুর্লভ: সঠিক মৌসুমে, সঠিক আবাসে দক্ষ পর্যবেক্ষকের এক সফরে যে পাখি একবার দেখা সম্ভব
  • সুলভ: সঠিক মৌসুমে, সঠিক আবাসে যে পাখি প্রতিদিনই দেখা যায়

গতিবিধি নির্দেশ করার জন্য নিম্নলিখিত তিনটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে-

  • আবাসিক: সারা বছর এ দেশে থাকে। যেসব আবাসিক পাখি বর্তমানে বাংলাদেশে বিলুপ্ত তাদেরকে প্রাক্তন আবাসিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • পরিযায়ী: বছরের নির্দিষ্ট একটি সময়ে খণ্ডকালের জন্য নিয়মিত অবস্থান করে
  • পান্থ-পরিযায়ী: এক আবাস থেকে আরেক আবাসে গমনের সময় সাময়িকভাবে অবস্থান করে

মন্তব্য করুন